সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পরীস্থান থেকে আসা ডিজিটাল জাম্বু


 mononesh das : বাংলা সিনেমায় পরিস্থান আছে । উর্ধ্বলোকে পরীস্থানে থাকেন, পরী আর তাদের রাণী। যাদুকর জাম্বু সেই দৃশ্য দেখেন, মর্তলোকে বসে কাঁচের আয়নায় স্বচ্ছ পানিতে।

সেখানে বসেই ছুঁ মন্তর ছু । আহারে যদি জাম্বুর মত হতে পারতান !
জাম্বুর এহেন কারবার বাস্তবে ঘটছে, ডিজিটাল এ যুগে । ঘর বাড়ি অফিস আদালত বন জঙ্গল যেখানেই থাকি এনরয়েড মোবাইলের আয়নায় ওয়েব সিসি ক্যামেরায় দেখি ইন্টারনেট দিয়ে জাম্বু আরো অনেক কিছু । মুহূরত্ইে । সিনেমা হলের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পর ইন্টারবেল বা লম্বা বিরতির অযথা সময় নষ্টেরও সময় নেই। নানা ত্রুটিতে রিল নষ্ট, যান্ত্রিক বিচ্যুতিতে দীরঘ সময় অপেক্ষারও সময় নেই ।
ওয়েব সাইট , ইমেইল, জিমেইল, ইয়াহু, ফেসবুক, টুইটটার আরো কতো কিছু আছে এখন। জাম্বু বেঁচে থাকলে আয়নায় স্বচ্ছ পানির মত এনরয়েড মোবাইল, ল্যাবটব, কম্পিউটার ( সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) মনিটরের পর্দায়। জাম্বু বেঁচে থাকলে এসব চালাতে পারতেন কি না জানিনা। এখন অনেক রিকশা চালকও এনরয়েড মোবাইল চালাতে জানেন।
দর্শকদের মুখে শুনেছি জাম্বু মেথর ছিলেন । অভিনয় যাই করুন । প্রশংসার জুড়ি ছিলনা তার। খ্যাতি কুড়াতে তিনি তার শরীর আর মুখমন্ডলের চর্চা বা প্র্যাকটিস অভিনয়ে কাজে লাগিয়েছেন । পাহার কাঁধে নিয়ে উড়ে যাওয়ার চরিত্রে তার বিকল্প এখনও কল্পনা করা যায় না । বিশাল গোঁফ, ঠোটের নীচে চিকন লম্বা ইয়া দাড়ি উড়ছে আকাশে। এখন রাডারে উড়া যায় । দুহাতে রাখা যাদুর গোল পৃথিবী ঘুরিয়ে মিক্কু মা-কা-শা ছু- ফুড়ুৎ মন্ত্র শেষে হু -হু -হা - হা -হা--শব্দের বিকট কর্কস হাঁসি।
শিউরে ওঠা গায়ের সুদূর কোন থেকে আসা নারী আবাল বৃদ্ধা দর্শকরা জাম্বুর অমঙ্গল চাইতেন । পরীস্থান থেকে তুলে এনে জাম্বু নায়িকাকে আটকে নিজের কব্জায় রেখেছে । ছাড়িয়ে নিতে আসা নায়কের পক্ষে দর্শক শক্তি জুগিয়েছেন, করতালি দিয়ে চিৎকার করে। উদ্ধারে আসা নায়ক যুবরাজকে সমর্থন আর জাম্বুর পতনের তলোয়ারের আক্রমন পাল্টা আক্রমনের দৃশ্যপট আজো চোখে ভাসে।
নায়কের বিজয়ে সিনেমা হলের ব্রেঞ্চ থেকে লাফিয়ে উঠতেন সারাদেশের মত মুক্তাগাছার রুমা ঝলক রানা মুন সিনেমা হলের দর্শকরাও। নিজের ছায়া পর্দার সামনে ভাসছে। খেয়াল নেই । হলের কর্মচারির টর্চ লাইটের ফোকাস, বসেন বসেন তাগিদের ধমকে টের পেতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ছারপোকার কামড় আমলে আসেনি এক বিন্দুও। কল্পনার জগতকে জিইয়ে রেখেছে জাম্বুর মত অভিনেতারা যুগের পর যুগ ধরে। জাম্বুই কেন - আফগানিস্তান থেকে আসা জাভেদ নেচে দর্শক মাতিয়েছেন নায়কের বেশে ।
ডিজিটালের যুগে জাম্বুর মত জাত খুঁজে বেড়ানোর সময় নেই । পারদর্শী রঙ ঢঙের মানুষ খুঁজে বেড়াই , ইউটিউব টেলিভিশন আর বড় পর্দায়। যারা পরিচিত হয়ে উঠছেন, জাম্বুর মত বিকল্পহীন তারকা বা অভিনেতা হয়ে । জাম্বু রেখে গেছেন , কর্ম গুনে অগনিত মোটা মানুষের নাম । যাদেরর ডাকা হয় জাম্বু বলে। জাম্বুর চরিত্র ধরে রাখতে হবে। তুলে ধরতে হবে, ফেলে আসা নায়ক ভিলেনের অভিনয় শিল্পীর শৈলীর মত করে। ভাবি এমনও ত হতে পারে কোন এক যুুগে যাদু আয়না স্বচ্ছ পানিতে দেখা ছবি বাস্তবে হত। একসময় লন্ডনের কে বিডি নিউজ , আমেরিকার বিপিসি ডটকমে আঞ্চলিক ও জেলার সংবাদ প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেছি । অনেক লেখা ছিল । সাইট বন্ধ ও আরকাইভে আমার সংবাদ আর নেই । জাম্বুর যুগেও কি আরো উন্নত প্রযুক্তির ইনটারনেট ছিল ? যদি তাই হয় এখনকার যুগের ডিজিটাল ইন্টারনেটের সংরক্ষণাগার যদি সারর্ ইঞ্জন থেকে হারিয়ে যায় ?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুক্তাগাছার দুই কবি

mononesh das :  মুক্তাগাছার দুই কবি। ইউসুফ আলী ও রমেশ রায় । ইউসুফ আলী পাড়াটঙ্গীর বাসিন্দা। রমেশ ছিলেন পিলখানার । এখন নবারুণ বিদ্যানিকেতন স্কুল। পেশায় দপ্তরি আর ইউসুফ আলী সারাদিন কাটান ভাবকিমোড় সাবিনা মার্কেট। পেশায় ব্যাটারি ডায়নামা মিস্ত্রী। ওস্তাদ সুনিল কুমার সাহা ও মোবারক মিস্ত্রীর হাত ধরে এপেশায় যোগদেন ১৯৬৪ সনে। কাজের ফাঁকে লিখেছেন অগনিত কবিতা। প্রকৃতি নিয়ে লেখা কবিতা সংরক্ষিত আছে ৩৫টি। কম্পিউটারের দোকান থেকে ছাপিয়ে রেখেছেন ।ছোট বয়সে বাবার মৃত্যুর কারণে স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি ছিয়াত্তর বছর বয়সী ইউসুফের। নিজের নাম ঠিকানা লিখা শিখতে গিয়ে অচেনা সবগুলো অক্ষর চিনে নিয়ে প্রয়োগের ব্যাকরণটাও রপ্ত করেন । রমেশ পৌর কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাইমাারি স্কুলে ১৯৭৬ সালে ফাইভে। আর্থিক দৈন্যতায় আর হয়ে ওঠেনি পড়ালেখা । চোখের সামনে যা দেখেন, আর মনে যা আসে তাই নিয়ে কবিতা রচনা হয় কাগজে হাতে লেখা অগনিত কবিতা । মনের মানুষ পেলে পড়ে শুনান। একবার স্কুলের পাশে অফিসের এ্যাসিলেন্ড সাহেবকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন । সাহেব নিমন্ত্রণ করে অফিসে নিয়ে গিয়ে চা পান করিয়েছেন । কবিতা লেখার হাত ভাল বলে প্রসংশা ক

mononesh das

My ‘Citizen Journalist’ reception experience Category: City talk Saturday 12 March 2022, 09:29 PM Print Friendly and PDF An introductory meeting of the working committee of Mymensingh Crime Reporters Association (CRAM) was held on 12 February. Trishal Police Station OC Moinuddin was the chief guest on the occasion and spoke on various aspects of objectivity in publishing news. He also shared various experiences of his professional life. Headmaster of Trishal Government Nazrul Academy Mezbah Uddin was present on the occasion as special guest. Khairul Aram Rafique, general secretary of the organization and journalist organizer, said, "We need to be more advanced and self-reliant by acquiring technical skills." I have had the experience of being received as a Charan journalist and citizen journalist at this meeting. I am happy and excited to receive such a reception. Receiving this honor will inspire me to develop work talents. It seems to me that we are all charan jour